Top Ads Area

মহাত্মা গান্ধীর জীবনী ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান | Mahatma Gandhi Biography in Bengali

Bangla GK Diary 0

মহাত্মা গান্ধীর জীবনী ও ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান (Mahatma Gandhi Biography in Bengali)

Mahatma Gandhi Biography in Bengali

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, তিনি হলেন জাতির জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী)। সত্য ও অহিংসাকে মূল হাতিয়ার করে তিনি বিশ্ব ইতিহাসকে নতুন এক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। শুধু ভারত নয়, সমগ্র বিশ্বে তিনি শান্তি, সত্যাগ্রহ ও মানবতাবাদী দর্শনের এক উজ্জ্বল প্রতীক। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (যেমন—WBCS, WBPSC Miscellaneous, WBP Constable, Primary TET, SSC, Railway) থেকে শুরু করে সাধারণ জ্ঞানের জন্য মহাত্মা গান্ধীর জীবনকৃতি ও আন্দোলন সম্পর্কিত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্লগে আমরা গান্ধীজির বাল্যকাল, শিক্ষাজীবন, দক্ষিণ আফ্রিকায় সংগ্রাম, ভারতের প্রধান প্রধান আন্দোলন এবং তাঁর অমর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।


📋 এক নজরে মহাত্মা গান্ধী (Quick Reference Table)


বিষয়
বিবরণ
পূর্ণ নাম
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (Mohandas Karamchand Gandhi)
জন্ম তারিখ
২ অক্টোবর, ১৮৬৯
জন্মস্থান
পোরবন্দর, কাথিয়াওয়াড় প্রদেশ, গুজরাট, ব্রিটিশ ভারত
পিতা
করমচাঁদ উত্তরচাঁদ গান্ধী
মাতা
পুত্তলীবাঈ
পত্নী
কস্তুরবা গান্ধী
উপাধি/নাম
মহাত্মা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রদত্ত), জাতির জনক (সুভাষচন্দ্র বসু প্রদত্ত), বাপু
রাজনৈতিক গুরু
গোপালকৃষ্ণ গোখলে
আত্মজীবনী
My Experiments with Truth (সত্যের সাথে আমার পরীক্ষার প্রয়োগ)
মৃত্যু তারিখ
৩০ জানুয়ারি, ১৯৪৮ (নাথুরাম গডসে কর্তৃক নিহত)
সমাধিস্থল
রাজঘাট (নয়াদিল্লি)


👶 শৈশব ও শিক্ষাজীবন (Early Life and Education)

〇 জন্ম ও পরিবার:

১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরের এক ঐতিহ্যবাহী হিন্দু বেনিয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা করমচাঁদ গান্ধী রাজকোটের দেওয়ান ছিলেন এবং মাতা পুত্তলীবাঈ ছিলেন অত্যন্ত ধর্মানুরাগী ও নিষ্ঠাবান নারী।


〇 বিবাহ:

১৮৮৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সমবয়সী কস্তুরবা গান্ধীর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাঁদের চার পুত্র—হরিলাল, মনিলাল, রামদাস ও দেবদাস।


〇 শিক্ষা ও বিলেত যাত্রা:

প্রাথমিক শিক্ষা রাজকোটে সম্পন্ন করার পর ১৮৮৭ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন। পরবর্তীতে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ১৮৯১ সালে তিনি ব্যারিস্টারি পাশ করে ভারতে ফিরে আসেন।


🇿🇦 দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মজীবন ও সত্যাগ্রহের সূচনা (Life in South Africa)

১৮৯৩ সালে জনৈক ভারতীয় ব্যবসায়ী দাদা আব্দুল্লাহ অ্যান্ড কোম্পানির আইনি উপদেষ্টা হিসেবে গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এই সফর তাঁর জীবন ও দর্শনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনে।


〇 বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই:

দক্ষিণ আফ্রিকার 'সেন্ট পিটারমারিটজবার্গ' রেলওয়ে স্টেশনে কেবল ভারতীয় হওয়ার কারণে প্রথম শ্রেণির কামরা থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়। এই অপমানজনক ঘটনা তাঁকে বর্ণবৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করে।


〇 নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস (১৮৯৪):

ভারতীয়দের অধিকার সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে ১৮৯৪ সালে তিনি 'নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস' প্রতিষ্ঠা করেন।


〇 প্রথম সত্যাগ্রহ (১৯০৬):

দক্ষিণ আফ্রিকাতেই গান্ধীজি প্রথম তাঁর অহিংস 'সত্যাগ্রহ' অস্ত্রের সফল প্রয়োগ করেন।


〇 ভারতে প্রত্যাবর্তন (১৯১৫):

দীর্ঘ আন্দোলন শেষে ১৯১৫ সালের ৯ই জানুয়ারি গান্ধীজি ভারতে ফিরে আসেন। এই ৯ই জানুয়ারি দিনটি ভারতে ‘প্রবাসী ভারতীয় দিবস’ (Non-Resident Indian Day) হিসেবে পালিত হয়।


🇮🇳 ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা ও আন্দোলনসমূহ

ভারতে ফিরে গান্ধীজি তাঁর রাজনৈতিক গুরু গোপালকৃষ্ণ গোখলের পরামর্শে সমগ্র ভারত ভ্রমণ করেন এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট প্রত্যক্ষ করেন।


১. চম্পারণ ও খেদা সত্যাগ্রহ (১৯১৭ - ১৯১৮)

〇 চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭): বিহারের চম্পারণে নীলকর সাহেবদের অত্যাচার ও 'তিনকাঠিয়া' প্রথার বিরুদ্ধে গান্ধীজি ভারতের মাটিতে প্রথম সত্যাগ্রহ আন্দোলন পরিচালনা করেন।


〇 খেদা আন্দোলন (১৯১৮): গুজরাটের খেদা জেলায় চরম দুর্ভিক্ষের সময় কৃষকদের খাজনা মকুবের দাবিতে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেন এবং সাফল্য লাভ করেন।


২. রাউলাট আইন বিরোধী আন্দোলন ও জালিয়ানওয়ালাবাগ (১৯১৯)

〇 ব্রিটিশ সরকারের দমনমূলক 'রাউলাট আইন'-এর বিরুদ্ধে তিনি দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেন।


〇 ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গান্ধীজি ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত ‘কৈসর-ই-হিন্দ’ (Kaisar-i-Hind) উপাধি ত্যাগ করেন।


৩. অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০ - ১৯২২)

〇 স্বরাজ অর্জন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগের অন্যায়ের প্রতিবাদে ১৯২০ সালে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


〇 স্বদেশী পণ্য গ্রহণ, খাদি সুতো কাটা এবং বিলাতি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়।


〇 আন্দোলন প্রত্যাহার: ১৯২২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরা গ্রামে উত্তেজিত জনতা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দিলে কয়েকজন পুলিশকর্মী নিহত হন। হিংসাত্মক রূপ নেওয়ায় গান্ধীজি ১২ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।


৪. আইন অমান্য আন্দোলন ও ডান্ডি অভিযান (১৯৩০)

〇 ডান্ডি পদযাত্রা (Dandi March): সাধারণ মানুষের ব্যবহারের পণ্য লবণের ওপর অন্যায্য কর আরোপের প্রতিবাদে ১৯৩০ সালের ১২ই মার্চ গান্ধীজি ৭৮ জন অনুগামীকে নিয়ে সবরমতী আশ্রম থেকে গুজরাটের ডান্ডি উপকূল পর্যন্ত ২৪১ মাইল (প্রায় ৪০০ কিমি) পথ খালি পায়ে হেঁটে যান।


〇 ৬ই এপ্রিল ডান্ডিতে পৌঁছে সমুদ্রের জল ফুটিয়ে লবণ তৈরি করে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন।


〇 ১৯৩১ সালে লর্ড আরউইনের সাথে 'গান্ধী-আরউইন চুক্তি' স্বাক্ষরের পর এই আন্দোলন স্থগিত হয় এবং গান্ধীজি দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে লন্ডন যান।


৫. ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)

〇 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট বোম্বাইয়ের 'আগস্ট ক্রান্তি ময়দান' থেকে গান্ধীজি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে 'ভারত ছাড়ো' (Quit India) আন্দোলনের ডাক দেন।


〇 এই আন্দোলন চলাকালীন তিনি তাঁর বিখ্যাত ঐতিহাসিক মন্ত্র প্রদান করেন: "করো অথবা মরো" (Do or Die)।


📚 গান্ধীজির শিক্ষানীতি, পত্রিকা ও বিখ্যাত গ্রন্থমালা


〇 বুনিয়াদি শিক্ষা (Nai Talim):

গান্ধীজি অবৈতনিক, শিশুকেন্দ্রিক ও কর্মমুখী প্রাথমিক শিক্ষার পক্ষে ছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা 'বুনিয়াদি শিক্ষা' বা 'নয়ী তালিম' নামে পরিচিত।


〇 সম্পাদিত পত্রিকা:

1. Indian Opinion (দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রকাশিত)

2. Young India

3. Navajivan

4. Harijan


〇 বিখ্যাত গ্রন্থ:

1. My Experiments with Truth (আত্মজীবনী)

2. Hind Swaraj (১৯০৯)

3. Key to Health


🎖️ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা


〇 আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস:

২০০৭ সালের ১৫ই জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২রা অক্টোবর (গান্ধীজির জন্মদিন)-কে 'আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস' (International Day of Non-Violence) হিসেবে ঘোষণা করে।


〇 উপাধিসমূহ:

1. 'মহাত্মা': কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করেন।

2. 'জাতির জনক': ১৯৪৪ সালে সিঙ্গাপুর থেকে আজাদ হিন্দ রেডিওতে ভাষণে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রথম গান্ধীজিকে 'জাতির জনক' বলে সম্বোধন করেন।


🕊️ জীবনাবসান (Assassination)

১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নয়াদিল্লির বিড়লা ভবনে সান্ধ্য প্রার্থনাসভায় যাওয়ার পথে নাথুরাম গডসে নামক এক চরমপন্থীর গুলিতে মহাত্মা গান্ধী প্রাণ হারান। তাঁর শেষ উচ্চারিত বাক্য ছিল "হে রাম"। তাঁর সমাধিস্থল নয়াদিল্লির 'রাজঘাট' নামে পরিচিত এবং ৩০শে জানুয়ারি দিনটি ভারতে 'শহীদ দিবস' (Martyrs' Day) হিসেবে পালিত হয়।


💡 প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রশ্নোত্তর (GK Q&A)


প্রশ্ন ১: গান্ধীজি কবে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?


উত্তর: ২ অক্টোবর, ১৮৬৯ সালে গুজরাটের পোরবন্দরে।


প্রশ্ন ২: গান্ধীজি ভারতে ফিরে আসার দিনটিকে (৯ই জানুয়ারি) কী হিসেবে পালন করা হয়?


উত্তর: প্রবাসী ভারতীয় দিবস (Non-Resident Indian Day)।


প্রশ্ন ৩: ভারতে গান্ধীজির পরিচালিত প্রথম সত্যাগ্রহ কোনটি?


উত্তর: ১৯১৭ সালের চম্পারণ সত্যাগ্রহ।


প্রশ্ন ৪: গান্ধীজিকে 'জাতির জনক' উপাধি কে দিয়েছিলেন?


উত্তর: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।


প্রশ্ন ৫: গান্ধীজির রাজনৈতিক গুরু কে ছিলেন?


উত্তর: গোপালকৃষ্ণ গোখলে।


প্রশ্ন ৬: 'করো অথবা মরো' স্লোগানটি কোন আন্দোলনের সময় দেওয়া হয়েছিল?


উত্তর: ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন।


প্রশ্ন ৭: গান্ধীজির আত্মজীবনীর নাম কী?


উত্তর: My Experiments with Truth (সত্যের সাথে আমার পরীক্ষার প্রয়োগ)।


উপসংহার (Conclusion)

মহাত্মা গান্ধী কেবল একজন রাজনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানবতাবাদী দর্শনের প্রতিকৃতি। সত্য, অহিংসা ও স্বাবলম্বনের বার্তা আজও বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে সমাদৃত। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ত্যাগ ও পথপ্রদর্শন ভারতবর্ষকে চিরঋণী করে রেখেছে।



📚 Read More...

🔷 পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল বেতন ২০২৬



Tags

Post a Comment

0 Comments

Top Post Ad

Bottom Post Ad