SSC GD 2026 - Important History GK MCQ in Bengali - Part 4

SSC GD 2026 - Important History GK MCQ in Bengali - Part 4


SSC GD 2026 – Important History GK MCQ in Bengali এই ব্লগ পোস্টে SSC GD 2026 পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানের (History GK) MCQ প্রশ্ন ও উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে। ভারতীয় ইতিহাসের প্রাচীন, মধ্যযুগীয় এবং আধুনিক যুগ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি এখানে দেওয়া হয়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।



Important History GK MCQ in Bengali


Important History GK MCQ in Bengali



১. বহিষ্কৃত হিতকারিণী সভা (Society for Welfare of the Ostracized)-এর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: ডঃ বি আর আম্বেদকর।


Keypoint:-

◼️ বহিষ্কৃত হিতকারিণী সভা

✅ প্রতিষ্ঠাতা: ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর

✅ প্রতিষ্ঠার তারিখ: 20 জুলাই 1924

✅ প্রতিষ্ঠার স্থান: বোম্বে, বর্তমানে মুম্বাই

✅ মূল উদ্দেশ্য: অস্পৃশ্য ও দলিত শ্রেণির সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নতি

✅ স্লোগান: "Educate, Agitate, Organize" - শিক্ষিত হও, আন্দোলন করো, সংগঠিত হও


◼️ সভার মূল কাজ:

1. শিক্ষা বিস্তার: দলিতদের জন্য হোস্টেল ও স্কুল স্থাপন

2. সচেতনতা: সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রচার

3. অর্থনৈতিক সাহায্য: দলিতদের কর্মসংস্থানে সহায়তা

4. প্রতিনিধিত্ব: সরকারি চাকরি ও রাজনীতিতে দলিতদের অধিকার আদায়


◼️ এই সভাই পরবর্তীকালে আম্বেদকরের দলিত আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে এবং 1930 সালের প্রথম গোল টেবিল বৈঠকে দলিতদের প্রতিনিধি হিসেবে আম্বেদকরের যোগদানের পথ প্রশস্ত করে।



২. ১৮৬১ সালে প্রবর্তিত কোন আইন ব্রিটিশ ভারতের শাসনের জন্য একটি আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছিল?

উত্তর: ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্ট।


Keypoint:-

◼️ আইনটির মূল বৈশিষ্ট্য:

✅ পাস হয়: ১ আগস্ট ১৮৬১

✅ উদ্দেশ্য: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ শাসনে ভারতীয়দের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনা

✅ প্রধান ধারা: গভর্নর-জেনারেলের কাউন্সিলে আইন প্রণয়নের জন্য অতিরিক্ত সদস্য নিয়োগ


◼️ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো:

1. আইনসভার সূচনা: গভর্নর-জেনারেলের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলকে আইন প্রণয়নের জন্য ৬ থেকে ১২ জন অতিরিক্ত সদস্য যোগ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরা 'অ-সরকারি' সদস্য হতে পারতেন।

2. বিকেন্দ্রীকরণ শুরু: বোম্বে ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

3. পোর্টফোলিও সিস্টেম: কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়।

4. অর্ডিন্যান্স জারি: জরুরি অবস্থায় গভর্নর-জেনারেলকে অর্ডিন্যান্স জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়।


◼️ ঐতিহাসিক তাৎপর্য:

এই আইনই প্রথম ভারতীয়দের আইনসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পথ খোলে। যদিও সদস্যরা মনোনীত হতেন এবং ক্ষমতা সীমিত ছিল, তবুও এটি ব্রিটিশ ভারতের শাসনব্যবস্থায় 'প্রতিনিধিত্বের' ধারণার সূচনা করে। পরবর্তী ১৮৯২ ও ১৯০৯ সালের কাউন্সিল অ্যাক্টগুলো এই কাঠামোর উপরেই তৈরি হয়েছিল।



৩. ৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে কে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।


Keypoint:-

◼️ মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পটভূমি:

✅ প্রতিষ্ঠার সাল: আনুমানিক ৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

✅ প্রতিষ্ঠাতা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য

✅ সহায়ক: চাণক্য/কৌটিল্য, যিনি অর্থশাস্ত্রের রচয়িতা এবং চন্দ্রগুপ্তের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন

✅ রাজধানী: পাটলিপুত্র, বর্তমান পাটনা


◼️ কীভাবে প্রতিষ্ঠা হয়:

1. নন্দ বংশের পতন: চন্দ্রগুপ্ত চাণক্যের সাহায্যে মগধের ধননন্দকে পরাজিত করে নন্দ বংশের শাসনের অবসান ঘটান।

2. সেলুকাসের পরাজয়: আলেকজান্ডারের সেনাপতি সেলুকাস নিকেটরকে ৩০৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পরাজিত করে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

3. বিশাল সাম্রাজ্য: তাঁর সাম্রাজ্য উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে মহীশূর এবং পূর্বে বাংলা থেকে পশ্চিমে বেলুচিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।


◼️ গুরুত্ব: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের হাত ধরেই ভারতে প্রথম ঐক্যবদ্ধ ও কেন্দ্রীভূত সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। তাঁর নাতি অশোকের আমলে এই সাম্রাজ্য সর্বোচ্চ বিস্তার লাভ করে।



৪. কোন গ্রিক দূত মৌর্য রাজধানী পাটলিপুত্র পরিদর্শন করেছিলেন এবং যার বিবরণ মৌর্য যুগের একটি প্রধান উৎস?

উত্তর: মেগাস্থিনিস।


Keypoint:-

◼️ মেগাস্থিনিস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

✅ পরিচয়: সেলুকাস নিকেটরের দূত

✅ পরিদর্শনের সময়: আনুমানিক ৩০২-২৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্বকালে

✅ রাজধানী: পাটলিপুত্র, বর্তমান পাটনা

✅ গ্রন্থের নাম: ইন্ডিকা


◼️ ইন্ডিকা-র গুরুত্ব:

মেগাস্থিনিসের লেখা ইন্ডিকা বইটির মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেলেও পরবর্তী গ্রিক লেখকদের উদ্ধৃতি থেকে এর অনেক অংশ পাওয়া যায়। এটি মৌর্য যুগের সমাজ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও ভূগোল জানার অন্যতম প্রধান উৎস।


◼️ ইন্ডিকায় উল্লিখিত বিষয়:

1. প্রশাসন: পাটলিপুত্রের নগর-শাসন ব্যবস্থা, ৬টি কমিটি ও ৩০ জন সদস্যের পৌরসভা

2. সমাজ: ভারতীয় সমাজকে ৭টি শ্রেণিতে ভাগ করা - দার্শনিক, কৃষক, পশুপালক, কারিগর, সৈনিক, পরিদর্শক ও সভাসদ

3. অর্থনীতি: কৃষিই ছিল প্রধান জীবিকা, জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না

4. সামরিক ব্যবস্থা: ৬ লক্ষ পদাতিক, ৩০ হাজার অশ্বারোহী, ৯ হাজার হাতির বিশাল বাহিনীর উল্লেখ


◼️ চন্দ্রগুপ্তের দরবারে দীর্ঘদিন থাকার ফলে মেগাস্থিনিস মৌর্য সাম্রাজ্যের যে প্রত্যক্ষ বিবরণ দিয়েছেন, তা কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র ও অশোকের শিলালিপির পাশাপাশি মৌর্য ইতিহাসের ভিত্তি তৈরি করেছে।



৫. ১৯৩০ সালে ডান্ডি পর্যন্ত লবণ মার্চের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী।


Keypoint:-

◼️ ডান্ডি মার্চ/লবণ সত্যাগ্রহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

✅ নেতৃত্ব: মহাত্মা গান্ধী

✅ শুর তারিখ: ১২ মার্চ ১৯৩০

✅ যাত্রা শুরু: সবরমতী আশ্রম, আহমেদাবাদ

✅ সমাপ্তি: ৬ এপ্রিল ১৯৩০, ডান্ডি, গুজরাট

✅ দূরত্ব: প্রায় ৩৮৫ কিমি, ২৪ দিন


◼️ মার্চের কারণ:

ব্রিটিশ সরকারের লবণ আইনের বিরোধিতা। এই আইনে ভারতীয়দের লবণ তৈরি বা সংগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে চড়া দামে লবণ কিনতে বাধ্য করা হত। গান্ধীজি এটিকে "দরিদ্র মানুষের উপর কর" বলে অভিহিত করেন।


◼️ ঐতিহাসিক গুরুত্ব:

1. আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা: ডান্ডিতে পৌঁছে ৬ এপ্রিল গান্ধীজি সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে আইন ভাঙেন

2. সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে: দেশজুড়ে মানুষ লবণ তৈরি, বিদেশি কাপড় বয়কট ও মদ দোকানে পিকেটিং শুরু করে

3. আন্তর্জাতিক দৃষ্টি: এই অহিংস আন্দোলন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে

4. গোল টেবিল বৈঠক: এর ফলেই ১৯৩১ সালে গান্ধী-আরউইন চুক্তি হয় এবং গান্ধীজি দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠকে যোগ দেন


◼️ এই মার্চ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান মাইলফলক।



৬. অশোকের অনুশাসনগুলিতে প্রধানত কোন ভাষা এবং লিপি ব্যবহার করা হয়েছিল?

উত্তর: প্রাকৃত ভাষা এবং ব্রাহ্মী লিপি।


Keypoint:-

◼️ অশোকের অনুশাসন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

✅ প্রধান ভাষা: প্রাকৃত - সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা, যাতে সবাই বুঝতে পারে

✅ প্রধান লিপি: ব্রাহ্মী - ভারতের বেশিরভাগ অনুশাসনে ব্যবহৃত

✅ অন্যান্য ভাষা/লিপি: উত্তর-পশ্চিম অংশে: খরোষ্ঠী লিপি ও গ্রিক-আরামাইক ভাষা। আফগানিস্তানের কান্দাহার অনুশাসন: গ্রিক ও আরামাইক


◼️ কেন প্রাকৃত ও ব্রাহ্মী?

1. প্রাকৃত: সংস্কৃত ছিল পণ্ডিতদের ভাষা। অশোক চেয়েছিলেন তাঁর ধম্মের বাণী সাধারণ কৃষক, ব্যবসায়ী সবার কাছে পৌঁছাক। তাই প্রাকৃতের বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ যেমন মাগধী, গান্ধারী প্রাকৃত ব্যবহার করা হয়।


2.ব্রাহ্মী লিপি: এটি তখন ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে প্রচলিত লিপি ছিল। এই লিপি থেকেই পরবর্তীকালে দেবনাগরী, বাংলা, তামিল সহ ভারতীয় সব লিপির জন্ম।


◼️ ব্যতিক্রম:

• শাহবাজগড়ি ও মানসেরা অনুশাসন: খরোষ্ঠী লিপি, যা ডানদিক থেকে বামদিকে লেখা হত

• কান্দাহার দ্বিভাষিক অনুশাসন: গ্রিক ও আরামাইক ভাষায়, কারণ ওই অঞ্চলে গ্রিক সংস্কৃতির প্রভাব ছিল

 

◼️ মোট ১৪টি বৃহৎ শিলালেখ, ক্ষুদ্র শিলালেখ ও স্তম্ভলেখ মিলিয়ে অশোকের ৩০+ অনুশাসন পাওয়া গেছে, যা মৌর্য যুগের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষ উৎস।



৭. দলিতদের অধিকার প্রচারের জন্য ডঃ বি আর আম্বেদকর কোন সংস্থাটি গঠন করেন?

উত্তর: বহিষ্কৃত হিতকারিণী সভা।


Keypoint:-

◼️ সংস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

✅ প্রতিষ্ঠাতা: ডঃ বি আর আম্বেদকর

✅ প্রতিষ্ঠিত: ২০ জুলাই ১৯২৪, বোম্বেতে

✅ নাম অর্থ: "বহিষ্কৃতদের কল্যাণ সাধনকারী সভা"

✅ মূল স্লোগান: "Educate, Agitate, Organize" - শিক্ষিত হও, আন্দোলন করো, সংগঠিত হও



◼️ প্রধান উদ্দেশ্য ও কাজ:

1. শিক্ষা: দলিত ছাত্রদের জন্য হোস্টেল, লাইব্রেরি ও বৃত্তির ব্যবস্থা করা

2. সামাজিক উন্নতি: অস্পৃশ্যতা ও জাতিভেদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন

3. রাজনৈতিক অধিকার: সরকারি চাকরি ও আইনসভায় দলিতদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা

4. অর্থনৈতিক সহায়তা: দলিতদের স্বাবলম্বী করতে সাহায্য


◼️ ঐতিহাসিক গুরুত্ব:

এটি ছিল আম্বেদকরের প্রতিষ্ঠিত প্রথম বড় সংগঠন। এই সভার মাধ্যমেই দলিত আন্দোলন একটি সুসংগঠিত রূপ পায়। পরবর্তীকালে এই সভার কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই আম্বেদকর ১৯৩০ সালের প্রথম গোল টেবিল বৈঠকে দলিতদের পক্ষে জোরালো দাবি তোলেন এবং ১৯৩২ সালে 'পুনা চুক্তি' স্বাক্ষর করেন।



৮. মগধের সিংহাসনে রাজা বিম্বিসারের উত্তরসূরি কে ছিলেন?

উত্তর: অজাতশত্রু।


Keypoint:-

◼️ বিম্বিসার ও অজাতশত্রু সম্পর্কে তথ্য:

✅ রাজবংশ: হর্য্যঙ্ক বংশ, মগধ

✅ বিম্বিসার: মগধের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজা, আনুমানিক ৫৪-৪৯২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

✅ উত্তরসূরি: পুত্র অজাতশত্রু, আনুমানিক ৪৯২-৪৬০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ

✅ সম্পর্ক: বৌদ্ধ ও জৈন গ্রন্থ অনুযায়ী অজাতশত্রু পিতা বিম্বিসারকে বন্দী করে সিংহাসন দখল করেন


◼️ অজাতশত্রুর শাসনকালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

1. সাম্রাজ্য বিস্তার: কোশল ও বৈশালী জয় করে মগধের শক্তি বৃদ্ধি করেন। লিচ্ছবিদের সঙ্গে দীর্ঘ ১৬ বছরের যুদ্ধ করেন।

2. রাজধানী স্থানান্তর: রাজগৃহ থেকে পাটলিপুত্রে রাজধানী সরানোর কাজ শুরু করেন, যা পরে মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী হয়।

3. বুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক: প্রথমে পিতার মতো বুদ্ধের বিরোধী হলেও পরে বুদ্ধের অনুসারী হন। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর রাজগৃহে প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় হয়।

4. দুর্গ নির্মাণ: গঙ্গা ও শোন নদীর সঙ্গমস্থলে পাটলিপুত্রে দুর্গ নির্মাণ করান।


◼️ অজাতশত্রুর পুত্র উদয়ভদ্র তাঁর উত্তরসূরি ছিলেন। বিম্বিসার ও অজাতশত্রুর আমলেই মগধ উত্তর ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী মহাজনপদে পরিণত হয়, যা পরে নন্দ ও মৌর্য সাম্রাজ্যের ভিত্তি তৈরি করে।




৯. কোন ঘটনাটি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠনের দিকে পরিচালিত করেছিল?

উত্তর: বঙ্গভঙ্গ।


Keypoint:-

◼️ মুসলিম লীগ গঠনের পটভূমি:

✅ গঠিত: ৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬, ঢাকায়

✅ প্রতিষ্ঠাতা: নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল-মুলক, আগা খান প্রমুখ

✅ মূল কারণ: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি


◼️ বঙ্গভঙ্গ কীভাবে মুসলিম লীগ গঠনে ভূমিকা রাখে:

1. বঙ্গভঙ্গ, ১৯০৫: লর্ড কার্জন বাংলা ভাগ করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন মুসলিম-প্রধান প্রদেশ তৈরি করেন। ঢাকা হয় নতুন প্রদেশের রাজধানী।

2. মুসলিম অভিজাতদের সমর্থন: পূর্ববঙ্গের মুসলিম জমিদার ও শিক্ষিত শ্রেণি ভেবেছিল নতুন প্রদেশে তাদের চাকরি ও রাজনৈতিক সুযোগ বাড়বে। তাই তারা বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।

3. কংগ্রেসের বিরোধিতা: জাতীয় কংগ্রেস ও হিন্দু নেতারা বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে স্বদেশী আন্দোলন শুরু করে। এতে মুসলিম নেতাদের একাংশ মনে করে কংগ্রেস শুধু হিন্দু স্বার্থ দেখছে।

4. পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজন: ১৯০৬ সালের অক্টোবরে আগা খানের নেতৃত্বে ৩৫ জন মুসলিম নেতা সিমলা ডেপুটেশন নিয়ে ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর কাছে যান। তারা মুসলিমদের জন্য পৃথক নির্বাচন ও সংরক্ষণের দাবি জানান। মিন্টো এই দাবিতে সম্মতি দেন।

5. ঢাকায় লীগ প্রতিষ্ঠা: সিমলা ডেপুটেশনের সাফল্যের পর নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ঢাকার শাহবাগে মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠিত হয়।


◼️ লীগের প্রাথমিক উদ্দেশ্য:

• ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা

• মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করা

• হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রেখে মুসলিম স্বার্থ দেখা


◼️ বঙ্গভঙ্গ পরবর্তীতে ১৯১১ সালে রদ হলেও, এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলিমদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির পথ খুলে দেয়।


১০. বাংলার একটি সংস্কারবাদী আন্দোলন 'তত্ত্ববোধিনী সভা'-র প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।


Keypoint:-

◼️ তত্ত্ববোধিনী সভা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

✅ প্রতিষ্ঠাতা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

✅ প্রতিষ্ঠার সাল: ৬ অক্টোবর ১৮৩৯

✅ প্রতিষ্ঠার স্থান: কলকাতা

✅ উদ্দেশ্য: বেদান্ত ও উপনিষদের ধর্ম প্রচার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের সমালোচনার জবাব দেওয়া


◼️ সভার প্রধান কাজ ও অবদান:

1. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা: ১৮৪৩ সালে অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় এই পত্রিকা প্রকাশ শুরু হয়। এটি উনিশ শতকের বাংলা গদ্যের বিকাশে বিশাল ভূমিকা রাখে।

2. ব্রাহ্মসমাজের সংস্কার: ১৮৪৩ সালে দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্মসমাজের দায়িত্ব নেন এবং তত্ত্ববোধিনী সভাকে ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত করেন। 

3. বেদান্ত চর্চা: উপনিষদের একেশ্বরবাদী ধর্ম প্রচার ও পৌত্তলিকতার বিরোধিতা করা হয়।

4. শিক্ষা বিস্তার: যুক্তিবাদী ও আধুনিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও এই সভার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।


◼️ ঐতিহাসিক গুরুত্ব:

রাজা রামমোহন রায়ের ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার পর এটি কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তত্ত্ববোধিনী সভার মাধ্যমে ব্রাহ্ম আন্দোলনকে নতুন করে সংগঠিত করেন। পরবর্তীকালে কেশবচন্দ্র সেন ও দেবেন্দ্রনাথের মতভেদে ব্রাহ্মসমাজ ভাগ হলেও, তত্ত্ববোধিনী সভা বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল।



আরও পড়ুনঃ

◼️ SSC GD 2026 - Important History GK MCQ in Bengali - Part 3

◼️ SSC GD 2026 - Important History GK MCQ in Bengali - Part 2