শেষনাগ ১৫০: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের নতুন তুরুপের তাস
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন বা চালকবিহীন বিমানের গুরুত্ব অপরিসীম। ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারত এখন তার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করছে 'শেষনাগ ১৫০' (Sheshnaag-150) ড্রোন। এই পোস্টে ভারতের এই শক্তিশালী ড্রোনটির বৈশিষ্ট্য এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
![]() |
| Sheshnaag-150 |
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের ধরণ বদলে গেছে। এখন দেশগুলো দামী মিসাইলের বদলে ড্রোনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানের 'শহীদ ১৩৬' (Shahed 136) ড্রোন যেভাবে প্রভাব ফেলেছে, ঠিক একইভাবে ভারত তার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করছে শেষনাগ ১৫০।
শেষনাগ ১৫০ কী?
এটি একটি লং রেঞ্জ লটারিং মিউনিশন (Long Range Loitering Munition) বা যাকে সাধারণভাবে 'কামিকাজে ড্রোন' (Kamikaze Drone) বা 'সুইসাইড ড্রোন' বলা হয়। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এটি শত্রুপক্ষের সীমানার গভীরে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ আকাশে উড়তে পারবে (Loitering) এবং লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে ধ্বংস করে দেবে।
কারা তৈরি করছে?
বেঙ্গালুরু ভিত্তিক ডিফেন্স স্টার্টআপ নিউ স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিস (NSRT) এটি তৈরি করছে। কোম্পানিটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের দ্বারা পরিচালিত এবং তারা ডিআরডিও (DRDO)-র সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
কেন এর নাম 'শেষনাগ'?
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে শেষনাগ একটি বহু মস্তক বিশিষ্ট সাপ। এই ড্রোনটিও মূলত 'সোয়ার্ম ড্রোন' (Swarm Drone) প্রযুক্তিতে কাজ করে। অর্থাৎ, এটি একা নয় বরং ২৫ থেকে ৫০টি ড্রোনের একটি ঝাঁক হিসেবে একসাথে আক্রমণ করে, যা শত্রুপক্ষের রাডারের জন্য ধরা ছোঁয়ার বাইরে হয়ে দাঁড়ায়।
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:
ওজন: প্রতিটি ড্রোনের ওজন প্রায় ১৫০ কেজি।
পাল্লা (Range): ১০০০ থেকে ১২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এটি আঘাত হানতে সক্ষম।
স্থায়িত্ব: আকাশে টানা ৫ ঘণ্টা উড়তে পারে।
বিস্ফোরক: ২৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক বহন করতে পারে।
এআই (AI) চালিত: এটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI দ্বারা পরিচালিত। এটি নিজে থেকেই লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করতে এবং রুট পরিকল্পনা করতে পারে।
বিশেষ ক্ষমতা: জিপিএস-বিহীন নেভিগেশন
আধুনিক যুদ্ধে জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম করে দেওয়া একটি সাধারণ কৌশল। শেষনাগ ১৫০-এর সবচেয়ে বড় গুণ হলো এটি জিপিএস ছাড়াই (GPS-denied navigation) শুধু ভিজ্যুয়াল ট্রেইন নেভিগেশন এবং এআই ইমেজ রিকগনিশনের মাধ্যমে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
যুদ্ধক্ষেত্রে এর গুরুত্ব:
১. সাশ্রয়ী: একটি দামী ক্রুজ মিসাইলের তুলনায় এই ড্রোন তৈরি করা অনেক সস্তা।
২. গভীর আঘাত: উত্তর ভারত থেকে উৎক্ষেপণ করলে এটি পাকিস্তানের অনেক গভীরে বা পশ্চিম চীনে আঘাত হানতে সক্ষম।
৩. রাডার ধোঁকা: একসাথে অনেকগুলো ড্রোন যখন ঝাঁক বেঁধে আসে, তখন শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সবগুলোকে ধ্বংস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
উপসংহার
ভারত এখন ড্রোন ওয়ারফেয়ারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে। শেষনাগ ১৫০-এর মতো প্রযুক্তি ভারতকে একটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভান্টেজ দেবে, যা খুব কম খরচে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম।
আরও পড়ুনঃ
◼️ অসমে সুখোই Su-30 যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা: দুই পাইলটের মর্মান্তিক মৃত্যু ও দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ


Please do not enter any spam link in the comment box.