ইরান যুদ্ধ ও ভারতের এলপিজি সংকট: কেন কার্যকর হলো কঠোর 'এজমা' (ESMA) আইন?

Ads

ইরান যুদ্ধ ও ভারতের এলপিজি সংকট: কেন কার্যকর হলো কঠোর 'এজমা' (ESMA) আইন?

ইরান যুদ্ধ ও ভারতের এলপিজি সংকট: কেন কার্যকর হলো কঠোর 'এজমা' (ESMA) আইন?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং যুদ্ধের দামামা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, বিশেষ করে এলপিজি (LPG) সরবরাহের ওপর গভীর সংকটের ছায়া ফেলেছে। Bangla GK Diary-এর এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হল কেন ভারত সরকারকে 'এজমা' (ESMA)-র মতো কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হচ্ছে।


ইরান যুদ্ধ ও ভারতের এলপিজি সংকট

ভারতের বিভিন্ন বড় শহরে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ব্যাঙ্গালোর ও পুনের মতো শহরে হোটেল এবং শ্মশানঘাটেও গ্যাস সরবরাহের সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে 'এসেনশিয়াল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট' (ESMA) বা এজমা আইন প্রয়োগ করার মতো বিরল ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


১. সংকটের মূল কারণ: স্ট্রেট অফ হরমুজ (Strait of Hormuz)

পুরো সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি সরু সামুদ্রিক পথ—স্ট্রেট অফ হরমুজ। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এনার্জি রুট। বিশ্বের প্রায় ২০-৩০% তেল এবং এলপিজি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০-৬৪% আমদানি করে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা এই স্ট্রেট অফ হরমুজ দিয়েই ভারতে আসে। এই পথটি কোনোভাবে ব্যাহত হওয়া মানেই ভারতের সাপ্লাই চেইনে বড় ধাক্কা।


২. বীমা প্রিমিয়াম ও আকাশছোঁয়া দাম

ইরান ভারতের তেল ট্যাঙ্কারগুলো চলাচলের অনুমতি দিলেও অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমছে না। যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার ফলে জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম (Insurance Premium) ৩০০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ফলে গ্যাসের মূল দামের সঙ্গে এই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়ে এলপিজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।


৩. সরকারের গৃহীত বড় পদক্ষেপসমূহ

সংকট মোকাবিলায় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন:

এজমা (ESMA) প্রয়োগ: মজুতদারি (Hoarding) বন্ধ করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা সচল রাখতে এই আইন কার্যকর করা হয়েছে।


◼️ সাপ্লাই ডাইভারশন: বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে সেই গ্যাস এখন রান্নার কাজে বা ঘরোয়া ব্যবহারে (Domestic Supply) ডাইভার্ট করা হচ্ছে। এর ফলে হোটেল এবং মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরোক্ষ মুদ্রাস্ফীতি (Indirect Inflation) বাড়ছে।


◼️ বুকিং সাইকেলের পরিবর্তন: আতঙ্কিত হয়ে মানুষের গ্যাস মজুত করা বা 'প্যানিক বায়িং' রুখতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।


◼️ মূল্যবৃদ্ধি: ঘরোয়া এলপিজিতে ৫০-৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক এলপিজিতে ১০০-১১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


৪. ভারতের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা

ভারতের কাছে অপরিশোধিত তেলের জন্য 'স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ' (Strategic Petroleum Reserve) থাকলেও এলপিজির ক্ষেত্রে কোনো বড় রিজার্ভ নেই। এলপিজি মূলত 'রানিং ইনভেন্টরি মডেল'-এ চলে, যার অর্থ হলো সরবরাহে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলেই সরাসরি বাজারে এর প্রভাব পড়ে।


৫. ভবিষ্যতের পথ ও সমাধান

দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য ভারতের তিনটি কাজ করা জরুরি:

◼️ জ্বালানি বৈচিত্র্য (Energy Diversification): আমদানির উৎস কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আফ্রিকা, রাশিয়া বা আমেরিকার দিকে নজর দেওয়া।

◼️ জ্বালানি কূটনীতি (Energy Diplomacy): সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

◼️ এনার্জি ট্রানজিশন: রান্নার ক্ষেত্রে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইলেকট্রিক কুকিং এবং পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG)-এর ব্যবহার বাড়ানো।


আপনার এলাকায় কি এলপিজি সিলিন্ডার পেতে সমস্যা হচ্ছে? ভারত কি এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে পারবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।


আরও পড়ুনঃ

◼️ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

◼️ ৩০০ মিলিয়ন ডলারের THAAD রাডার ধ্বংস

◼️ নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে ইরান



Post a Comment

0 Comments