WBPSC Miscellaneous 2026 GK in Bengali - Set 4

WBPSC Miscellaneous 2026 GK in Bengali - Set 4


WBPSC Miscellaneous 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য জেনারেল নলেজ (GK) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই পরীক্ষার্থীদের সাহায্যের জন্য আমরা নিয়ে এসেছি WBPSC Miscellaneous 2026 GK in Bengali – Set 4, যেখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ General Knowledge ও Static GK প্রশ্ন ও উত্তর। এই প্রশ্নগুলো WBPSC সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয়।

এই সেটে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ GK প্রশ্ন ও উত্তর নিয়মিত অনুশীলন করলে আপনার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে যারা WBPSC Miscellaneous, WBCS, SSC, Railway, WBP, KP এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই প্রশ্নগুলো খুবই সহায়ক হবে।

তাই সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। নিয়মিত এমন Bengali GK, Static GK ও Practice Questions পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকুন।


WBPSC Miscellaneous 2026 GK in Bengali

WBPSC Miscellaneous 2026 GK in Bengali



১. কোন সাংবিধানিক সংশোধনী শিক্ষার অধিকার প্রদান করেছিল?

উত্তর: ৮৬ তম সংশোধনী।


৮৬তম সংশোধনী আইন, ২০০২ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার করা

৮৬তম সংশোধনীতে সংবিধানে নতুন ধারা 21A যোগ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সব শিশুকে রাষ্ট্র বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দেবে।


২. ২০০২ সালে পাস, ২০০৩ থেকে কার্যকর

সংসদে বিলটি ২০০২ সালের ডিসেম্বরে পাস হয় এবং ১ জুলাই ২০০৩ থেকে কার্যকর হয়।


৩. নির্দেশমূলক নীতি ও মৌলিক কর্তব্যে পরিবর্তন

ধারা 45 পরিবর্তন করে বলা হয়: রাষ্ট্র ৬ বছর পর্যন্ত সব শিশুর জন্য শৈশবকালীন যত্ন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করবে।

ধারা 51A-তে নতুন উপধারা (k) যোগ করা হয়: ৬–১৪ বছরের সন্তানকে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া বাবা-মা/অভিভাবকের মৌলিক কর্তব্য।


৪. RTE আইন 2009-এর ভিত্তি

এই সংশোধনী কার্যকর করতেই ২০০৯ সালে "Right of Children to Free and Compulsory Education Act" বা RTE আইন পাস হয়। আইনটিতে বেসরকারি স্কুলে ২৫% আসন দুর্বল শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ, শিক্ষকের যোগ্যতা, পরিকাঠামো ইত্যাদি বাধ্যতামূলক করা হয়।


৫. বেসরকারি স্কুলের দায়বদ্ধতা

  সংশোধনীর ফলে ৬–১৪ বছরের শিশুদের ভর্তি নিতে বেসরকারি/অনুদানহীন স্কুলও বাধ্য। না মানলে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা হতে পারে।


এই সংশোধনীকে "Right to Education Amendment" বলা হয় এবং এর মাধ্যমেই শিক্ষা প্রথমবার ভারতে আইনত বাধ্যতামূলক মৌলিক অধিকার হয়।



২. কোন স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মজীবনী 'আত্মকথা', যেটি পাটনার বাঁকিপুর জেলে বন্দি থাকাকালীন লিখেছিলেন?

উত্তর: রাজেন্দ্র প্রসাদ ।


'আত্মকথা' ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. বাঁকিপুর জেলে লেখা

১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ৩ বছর বাঁকিপুর সেন্ট্রাল জেল, পাটনায় বন্দি ছিলেন। জেল জীবনের এই সময়ে ১৯৪২–১৯৪৫ সালের মধ্যে তিনি আত্মজীবনীর বেশিরভাগ অংশ লেখেন।


২. প্রথম প্রকাশ হিন্দিতে

'আত্মকথা' মূলত হিন্দিতে লেখা ও প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে ইংরেজিতে 'Autobiography' নামে অনুবাদ হয়। বইয়ে ছাপরা গ্রামে শৈশব, মৌলভি সাহেবের কাছে পড়া, ১২ বছর বয়সে বিয়ে, কলকাতায় ছাত্রজীবন ও আইন পেশার কথা আছে।


৩. স্বাধীনতা সংগ্রামের দলিল

বইটি শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, ব্রিটিশ শাসনের শেষ বছরগুলোর রাজনৈতিক ইতিহাসও তুলে ধরে। গান্ধীজির প্রভাব, বিহারে অসহযোগ আন্দোলন, বিদেশি কাপড় বয়কট, সাম্প্রদায়িক সমস্যা, সত্যাগ্রহ ও সমাজ সংস্কারের বিবরণ আছে।


৪. কারাবাসের পটভূমি

৮ আগস্ট ১৯৪২, ভারত ছাড়ো প্রস্তাব পাসের পর কংগ্রেস নেতাদের সাথে রাজেন্দ্র প্রসাদও গ্রেফতার হন এবং বাঁকিপুর জেলে ৩ বছর থাকেন। ১৯৩৪ সালের বিহার ভূমিকম্পের সময়ও তিনি সত্যাগ্রহের জন্য জেলে ছিলেন।


৫. স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি

'আত্মকথা'র লেখক ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ পরে গণপরিষদের সভাপতি হন এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এ স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি যিনি দুবার নির্বাচিত হয়েছেন — ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে। ১৯৬২ সালে ভারতরত্ন পান।



৩. অর্থবিল শুধুমাত্র কোথায় পেশ করা হয়?

উত্তর: লোকসভায়।


অর্থবিল শুধুমাত্র লোকসভায় পেশ করা হয় — বিষয়টি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. সংবিধানের ধারা 110 ও রাষ্ট্রপতির সুপারিশ

অর্থবিল শুধুমাত্র লোকসভায় পেশ করা যায়, এবং তা পেশ করার আগে **রাষ্ট্রপতির সুপারিশ লাগবেই**। এটি সরকারি বিল, তাই শুধুমাত্র মন্ত্রীই উত্থাপন করতে পারেন।


২. স্পিকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

কোনো বিল অর্থবিল কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক হলে **লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত**। এতে স্পিকার সার্টিফিকেট দেন। রাজ্যসভা এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।


৩. রাজ্যসভার ক্ষমতা সীমিত

লোকসভা পাস করার পর অর্থবিল রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। রাজ্যসভা বিলটি প্রত্যাখ্যান বা সংশোধন করতে পারে না, শুধু ১৪ দিনের মধ্যে সুপারিশ দিতে পারে। লোকসভা চাইলে সেই সুপারিশ মানতেও পারে, নাও পারে। ১৪ দিনে ফেরত না দিলে বিল পাস হয়েছে ধরে নেওয়া হয়।


৪. অর্থবিলের বিষয়বস্তু

শুধুমাত্র কর আরোপ/বাতিল, সরকারের ঋণ গ্রহণ, ভারতের সংযুক্ত তহবিল থেকে খরচ বা তহবিলে অর্থ জমা—এই জাতীয় বিষয় থাকলেই বিলটিকে অর্থবিল বলা হয়। অন্য বিষয় মিশে থাকলে সেটি সাধারণ "আর্থিক বিল" হয়ে যায়, অর্থবিল নয়।


৫. রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও যৌথ অধিবেশন নেই

রাষ্ট্রপতি অর্থবিলে **সম্মতি দিতে বা আটকে রাখতে পারেন, কিন্তু ফেরত পাঠাতে পারেন না**। অর্থবিল নিয়ে লোকসভা-রাজ্যসভার মধ্যে মতভেদ হলে **যৌথ অধিবেশনের বিধান নেই**। রাজ্য বিধানসভাতেও অর্থবিল শুধু বিধানসভাতেই পেশ হয়, বিধান পরিষদে নয়।



৪. কার্ল লুইস কেন বিখ্যাত ছিলেন?

উত্তর: অ্যাথলিট হিসেবে।


কার্ল লুইস (Carl Lewis) সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. "অলিম্পিয়ান অফ দ্য সেঞ্চুরি" - ৯টি সোনাসহ ১০টি অলিম্পিক পদক

কার্ল লুইস ৪টি অলিম্পিকে অংশ নিয়ে ৯টি সোনা ও ১টি রুপা জেতেন। ১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ১০০ মি, ২০০ মি, লং জাম্প ও ৪x১০০ মি রিলেতে ৪টি সোনা জিতে জেসি ওয়েন্সের ১৯৩৬-এর রেকর্ড স্পর্শ করেন।


২. লং জাম্পে টানা চার অলিম্পিক সোনা

তিনি একমাত্র পুরুষ অ্যাথলিট যিনি লং জাম্পে পরপর ৪টি অলিম্পিক (১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৬) সোনা জিতেছেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই রেকর্ড এককভাবে তারই ছিল।


৩. বিশ্বরেকর্ড ও অভূতপূর্ব ধারাবাহিকতা

১৯৯১ সালে টোকিও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে ৯.৮৬ সেকেন্ড সময় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। লং জাম্পে ৬৫টি প্রতিযোগিতা টানা জেতার রেকর্ডও তার দখলে, যা ১৯৯১ সালে মাইক পাওয়েলের কাছে ভাঙে।


৪. দুই খেলায় ড্রাফট

ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের পাশাপাশি তিনি ১৯৮৪ সালে NFL-এর ডালাস কাউবয়েজ এবং NBA-র শিকাগো বুলস দুই দলেই ড্রাফট হয়েছিলেন, যদিও পেশাদার লিগে খেলেননি।


৫. শতাব্দীর সেরা অ্যাথলিট

১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি তাকে "Sportsman of the Century" এবং IAAF "World Athlete of the Century" নির্বাচিত করে। Sports Illustrated তাকে "Olympian of the Century" নাম দেয়।


বোনাস: ছোটবেলায় তিনি সেলো, পিয়ানো ও নাচ শিখতেন। বাবা-মা দুজনেই ট্র্যাক কোচ ছিলেন এবং স্থানীয় ক্লাব চালাতেন।



৫. ফাদার ব্রাউন কে?

উত্তর: একজন গোয়েন্দা।


ফাদার ব্রাউন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. জি. কে. চেস্টারটনের সৃষ্টি

ফাদার ব্রাউন ইংরেজ লেখক জি. কে. চেস্টারটনের তৈরি একটি কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র। ১৯১০ সালে The Innocence of Father Brown গল্পগ্রন্থে প্রথম আবির্ভাব হয়। মোট ৫৩টি ছোটগল্পে তাকে দেখা যায়।


২. চেহারায় সাধারণ, বুদ্ধিতে অসাধারণ

তিনি একজন খাটো, সাদাসিধে পোশাক পরা রোমান ক্যাথলিক পাদ্রি। সবসময় ছাতা নিয়ে ঘোরেন। বাইরে থেকে নির্বোধ মনে হলেও মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝায় তার অসাধারণ ক্ষমতা। এই সাধারণ চেহারাই অপরাধীদের কাছে তাকে নিরাপদ মনে করায়।


৩. পাদ্রির অভিজ্ঞতা দিয়ে রহস্যভেদ

গোয়েন্দাগিরির জন্য তিনি কনফেশন বক্সে শোনা মানুষের পাপের স্বীকারোক্তি কাজে লাগান। অপরাধীর মন কীভাবে কাজ করে সেটা বুঝতে পারেন বলে অপরাধ ধরতে সুবিধা হয়। আগাথা ক্রিস্টির মিস মার্পলের পূর্বসূরি বলা হয় তাকে।


৪. আসল ঠিকানা অজানা

গল্পে বলা হয় তিনি এসেক্সের কাল্পনিক গ্রাম **Cobhole**-এর পাদ্রি, পরে লন্ডনে চলে আসেন। তার বয়স, পরিবার বা পুরো নাম কখনও প্রকাশ করা হয়নি। এক গল্পে "Reverend J. Brown", আরেকটিতে "Paul" নামে উল্লেখ আছে।


৫. জনপ্রিয় টিভি সিরিজ

ফাদার ব্রাউন চরিত্র নিয়ে বহু সিনেমা ও সিরিজ হয়েছে। BBC One-এর Father Brown সিরিজ ২০১৩ থেকে চলছে, যেখানে মার্ক উইলিয়ামস নাম ভূমিকায় আছেন। সিরিজটি ১৯৫০-এর দশকের ইংল্যান্ডে সেট করা এবং এখনও পর্যন্ত ১৩টি সিজন হয়েছে।



৬. আর. কে. লক্ষ্মণ কিসের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: কার্টুনিস্ট হিসেবে।


আর. কে. লক্ষ্মণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. 'দ্য কমন ম্যান'-এর স্রষ্টা

আর. কে. লক্ষ্মণের সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টি "The Common Man" — চেক কোট পরা, চশমা চোখে, টাক মাথার এক সাধারণ নাগরিক। ১৯৫১ সালে *The Times of India*-তে শুরু হওয়া "You Said It" কার্টুন স্ট্রিপে এই চরিত্রটি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতের রাজনীতি ও সমাজের নীরব দর্শক হয়ে ছিল।


২. টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় ৫ দশক

১৯৪৭ সালে *The Times of India*-তে যোগ দেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৈনিক রাজনৈতিক কার্টুন আঁকতেন। তার কার্টুন ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী সব প্রধানমন্ত্রী — নেহরু থেকে মোদী পর্যন্ত — সবাইকে ব্যঙ্গ করেছে। ১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থার সময়ও সূক্ষ্মভাবে সরকারের সমালোচনা চালিয়ে যান।


৩. জাতীয় সম্মান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

পদ্মভূষণ (১৯৭৩), পদ্মবিভূষণ (২০০৫) এবং র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার (১৯৮৪) পান। ১৯৮৮ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ 'কমন ম্যান' নিয়ে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।


৪. লেখক ভাই আর. কে. নারায়ণ

তিনি বিখ্যাত ঔপন্যাসিক আর. কে. নারায়ণের ছোট ভাই। কলেজে পড়ার সময় দাদার গল্প *The Hindu*-তে ইলাস্ট্রেট করতেন। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতেন — মেঝে, দেয়াল, দরজায় আঁকিবুঁকি করতেন। J.J. School of Art-এ ভর্তির আবেদন খারিজ হয়েছিল।


৫. শেষ কার্টুন মঙ্গলযানের জন্য

২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের মঙ্গলযান মিশনের সাফল্য উদযাপন করে শেষ কার্টুন আঁকেন। এতে কমন ম্যানকে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে মঙ্গল গ্রহে যেতে দেখা যায়। ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ৯৩ বছর বয়সে পুনেতে মারা যান।



৭. 'Lady with the Lamp' হিসেবে কে পরিচিত?

উত্তর: ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল।


ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. 'ল্যাম্প হাতে মহিলা' নামের কারণ

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় ১৮৫৪-৫৬ সালে কনস্টান্টিনোপলের স্কুটারি হাসপাতালে তিনি রাতে হাতে লণ্ঠন নিয়ে আহত সৈনিকদের শয্যার পাশে ঘুরে ঘুরে সেবা করতেন। The Times পত্রিকায় এই খবর ছাপা হলে ব্রিটিশ জনগণ তাকে 'Lady with the Lamp' নামে ডাকতে শুরু করে।


২. আধুনিক নার্সিংয়ের জননী

তিনি নার্সিংকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৬০ সালে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে বিশ্বের প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ নার্সিং স্কুল — Nightingale Training School প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে নার্সিংকে অশিক্ষিত, মদ্যপ মহিলাদের কাজ ভাবা হত।


৩. হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা এনে মৃত্যুহার কমানো

স্কুটারি হাসপাতালে গিয়ে দেখেন নোংরা পরিবেশ, ভাঙা নর্দমা, অপর্যাপ্ত খাবার। তিনি দেয়াল-মেঝে ধোয়ান, পরিষ্কার লিনেন, খাবার ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করেন। ফলে ১৮৫৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪২% থেকে চার মাসে মৃত্যুহার ২% এ নেমে আসে।


৪. পরিসংখ্যান ও 'রোজ ডায়াগ্রাম'-এর প্রবর্তক

তিনি একজন দক্ষ পরিসংখ্যানবিদ ছিলেন। যুদ্ধে মৃত্যুর কারণ বোঝাতে পোলার এরিয়া ডায়াগ্রাম বা 'Nightingale Rose Diagram' তৈরি করেন, যা আধুনিক পাই চার্টের পূর্বসূরি। তথ্য দিয়ে সরকারকে বাধ্য করেন হাসপাতাল সংস্কার করতে।


৫. আজীবন মানবসেবা ও সম্মান

ধনী পরিবারে জন্মেও ১৭ বছর বয়সে ঈশ্বরের 'ডাক' পেয়ে নার্স হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। International Nurses Day তার জন্মদিন ১২ মে পালিত হয়। নতুন নার্সরা 'Nightingale Pledge' নেন এবং সর্বোচ্চ সম্মান Florence Nightingale Medal তার নামে। ১৯০৭ সালে প্রথম মহিলা হিসেবে 'Order of Merit' পান।



৮. ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ (Largest Freshwater Lake) কোনটি?

উত্তর: উলার হ্রদ।


উলার হ্রদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. ভারতের বৃহত্তম, এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ

জম্মু ও কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলায় অবস্থিত উলার হ্রদ ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম। এর আয়তন ঋতুভেদে ৩০ থেকে ২৬০ বর্গকিমি পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়। দৈর্ঘ্য ১৬ কিমি, প্রস্থ ১০ কিমি পর্যন্ত।


২. ঝিলম নদীর জলাধার ও বন্যা নিয়ন্ত্রক

ঝিলম নদী উলার হ্রদের প্রধান উৎস এবং নির্গম পথ। এটি কাশ্মীর উপত্যকার প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে কাজ করে এবং বর্ষায় বাড়তি জল ধারণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


৩. টেকটোনিক কার্যকলাপে সৃষ্টি ও জয়নুল লঙ্ক দ্বীপ

হ্রদটি টেকটোনিক কার্যকলাপের ফলে সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাচীন সতিসর হ্রদের অবশেষ বলেও মনে করা হয়। এর মাঝে আছে কৃত্রিম দ্বীপ 'জয়নুল লঙ্ক', যা ১৪৪৪ সালে কাশ্মীরের সুলতান জয়নুল আবিদিন তৈরি করিয়েছিলেন।


৪. রামসার স্থল ও জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার

১৯৯০ সালে রামসার কনভেনশনের অধীনে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি ঘোষিত হয়। হ্রদটি কাশ্মীর উপত্যকার মোট মাছ উৎপাদনের ৬০% যোগান দেয় এবং ৮,০০০-এর বেশি মৎস্যজীবীর জীবিকা। শীতকালে পরিযায়ী পাখি যেমন পোচার্ড, ম্যালার্ড, শোভেলারসহ বহু পাখির আশ্রয়স্থল।


৫. সংরক্ষণ উদ্যোগ ও পর্যটন

সম্প্রতি পলি অপসারণ ও উইলো গাছ কেটে ৫ বর্গকিমি জায়গা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৫৮০ মিটার উচ্চতায় হরমুখ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত এই হ্রদ শ্রীনগর থেকে ৩২ কিমি দূরে। এপ্রিল-অক্টোবর সেরা সময়, তখন পাখি দেখা, ফটোগ্রাফি ও নৌকাবিহারের জন্য আদর্শ।



৯. "নটসূর্য" কার খেতাবি নাম?

উত্তর: অহীন্দ্র চৌধুরী।


অহীন্দ্র চৌধুরী ও 'নটসূর্য' উপাধি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. 'নটসূর্য' উপাধির কারণ

অসাধারণ অভিনয় দক্ষতার জন্য তিনি 'নটসূর্য' অর্থাৎ 'অভিনয়ের সূর্য' খেতাব পান। ১৯২১ সালে মঞ্চে আত্মপ্রকাশের পর কর্ণার্জুন, শ্রীরামচন্দ্র, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, মহারাজ নন্দকুমার ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করে বাংলা রঙ্গমঞ্চের কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন।


২. মঞ্চ, যাত্রা ও চলচ্চিত্রের ত্রিবেণী

তিনি একাধারে মঞ্চ, যাত্রা ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯২৩ সালে Soul of a Slave* নির্বাক ছবির চিত্রনাট্য লেখেন ও নায়ক হন। সবাক যুগে *হৃষির প্রেম (১৯৩১) দিয়ে শুরু করে ৮৯টি ছবিতে অভিনয় করেন। সাজাহান নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় ছিল তার শেষ মঞ্চাভিনয় — ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৭, মিনার্ভা থিয়েটার।


৩. প্রথম দিকের চলচ্চিত্র সংগঠক

১৯২১ সালে প্রফুল্ল ঘোষের সঙ্গে মিলে Photo Play Syndicate প্রতিষ্ঠা করেন, যা কলকাতার অন্যতম প্রথম বায়োস্কোপ শো সংস্থা। ১৯২২ সালে Soul of a Slave পরিচালনা ও অভিনয় করেন।


৪. জাতীয় সম্মান ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান

১৯৫৮ সালে সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার ও ১৯৬৩ সালে পদ্মশ্রী পান। ১৯৫৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মিউজিক-থিয়েটার আকাদেমির অধ্যক্ষ হন। ১৯৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'গিরিশ লেকচারার' হিসেবে বক্তৃতা দেন, যা পরে বাংলা নাট্য বিবর্তনে গিরিশ চন্দ্র নামে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাম্মানিক ডিলিট দেয়।


৫. আত্মজীবনী ও শেষ জীবন

তার আত্মজীবনীর নাম **'নিজেরে হারায়ে খুঁজি'**। ৬ আগস্ট ১৮৯৬ কলকাতার চক্রবেড়িয়ায় জন্ম ও ৫ নভেম্বর ১৯৭৪ কলকাতায় মৃত্যু। ১৯৭৪ সালে ৭৮ বছর বয়সে শেষ ছবি *শ্রাবণ সন্ধ্যা*-তে অভিনয় করেন।



১০. কোন জাতীয় উদ্যান “সৈয়ন্ধ্রি বনম” নামে পরিচিত?

উত্তর: সাইলেন্ট ভ্যালি জাতীয় উদ্যান।


সাইলেন্ট ভ্যালি / সৈয়ন্ধ্রি বনম সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


১. নামের পৌরাণিক উৎস: সৈয়ন্ধ্রি বনম

মহাভারত অনুযায়ী অজ্ঞাতবাসের সময় দ্রৌপদী 'সৈয়ন্ধ্রি' ছদ্মনাম নিয়ে রানি সুদেষ্ণার দাসী সেজেছিলেন। বিশ্বাস করা হয় পাণ্ডবদের সঙ্গে তিনি এই অরণ্যে কিছুকাল লুকিয়ে ছিলেন, তাই এর প্রাচীন নাম 'সৈয়ন্ধ্রি বনম' অর্থাৎ সৈয়ন্ধ্রির বন। এই বনের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদীর নাম কুন্তিপুজা — কুন্তীর নামে।


২. 'সাইলেন্ট ভ্যালি' নাম কেন

ব্রিটিশরা ১৮৪৭ সালে এলাকাটি জরিপের সময় এখানে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনতে না পেয়ে নাম দেন 'Silent Valley'। আবার অনেকে বলেন 'Sairandhri'-র অপভ্রংশ থেকেই নামটি এসেছে।


৩. 'সেভ সাইলেন্ট ভ্যালি' আন্দোলন

১৯৭০-এর দশকে কেরালা বিদ্যুৎ পর্ষদ কুন্তিপুজা নদীতে 120 MW জলবিদ্যুৎ বাঁধ করতে চাইলে পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক 'Save Silent Valley' আন্দোলন শুরু হয়। সিংহ-লেজী বানরসহ বিরল জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে আন্দোলন সফল হয়। বাঁধ বাতিল করে ১৯৮৪ সালে একে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়।


৪. জীববৈচিত্র্যের হটস্পট

২৩৭ বর্গকিমি আয়তনের এই উদ্যান নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের কেন্দ্রবিন্দু এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য পশ্চিমঘাটের অংশ। এখানে বিপন্ন সিংহ-লেজী বানর, নীলগিরি লেঙ্গুর, মালাবার জায়ান্ট স্কুইরেল সহ ১০০০+ সপুষ্পক উদ্ভিদ ও ২০০+ পাখির প্রজাতি আছে। এটি ভারতের শেষ অবশিষ্ট গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরহরিৎ বর্ষাবনের একটি।


৫. অবস্থান ও দর্শনীয় স্থান

কেরালার পালাক্কাড় জেলায়, নীলগিরি পাহাড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৮০-২,৩৮৩ মি উচ্চতায় অবস্থিত। উদ্যানের ভিজিটর সেন্টার সৈয়ন্ধ্রিতে। সৈয়ন্ধ্রি ওয়াচ টাওয়ার থেকে কুন্তি নদী ও কোর এরিয়ার দৃশ্য দেখা যায়। সিসপারা (২,২০৬ মি) এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। ডিসেম্বর-এপ্রিল ভ্রমণের সেরা সময়।


আরও পড়ুন...

◼️ WBPSC Miscellaneous 2026 GK in Bengali - Set 3

◼️ বিগত বছরের WBCS প্রশ্নে আসা ঐতিহাসিক স্লোগান ও উক্তি

◼️ জলপ্রপাত ও বহুমুখী নদী পরিকল্পনা