ভারতীয় সংবিধানের ৪২তম ও ৪৪তম সংশোধনী | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ভারতীয় সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল, যা সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হয়। সংবিধানের এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'সংশোধনী' (Amendment)। অসংখ্য সংশোধনীর মধ্যে ৪২তম এবং ৪৪তম সংশোধনী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত। আজকের ব্লগে আমরা এই দুটি সংশোধনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
১. ৪২তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৭৬): 'মিনি কনস্টিটিউশন'
১৯৭৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের আমলে জরুরি অবস্থার সময় এই সংশোধনী পাস হয়। এটি এতই ব্যাপক ছিল যে একে 'মিনি কনস্টিটিউশন' (Mini Constitution) বা ক্ষুদ্র সংবিধান বলা হয়।
◼️ প্রস্তাবনায় পরিবর্তন: সংবিধানের প্রস্তাবনায় (Preamble) তিনটি নতুন শব্দ যোগ করা হয়— সমাজতান্ত্রিক (Socialist), ধর্মনিরপেক্ষ (Secular) এবং সংহতি (Integrity)।
◼️ মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties): এই সংশোধনীর মাধ্যমেই সংবিধানে প্রথমবার ১০টি মৌলিক কর্তব্য যোগ করা হয় (বর্তমানে ১১টি)। এর জন্য সংবিধানে একটি নতুন অংশ 'Part 4A' এবং 'Article 51A' যুক্ত করা হয়।
◼️ নির্দেশমূলক নীতি (DPSP): ৪টি নতুন নীতি যুক্ত হয়। যেমন— Article 39A (বিনামূল্যে আইনি সহায়তা), Article 43A (শিল্প ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণ) এবং Article 48A (পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষা)।
◼️ কার্যকাল বৃদ্ধি: লোকসভা ও বিধানসভার কার্যকাল ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬ বছর করা হয়েছিল।
২. ৪৪তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৭৮): ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা
৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারের হাতে যে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে গিয়েছিল, তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সংবিধানে ভারসাম্য বজায় রাখতে ১৯৭৮ সালে জনতা পার্টি সরকার ৪৪তম সংশোধনী আনে।
◼️ সম্পত্তির অধিকার (Right to Property): এই সংশোধনীর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল সম্পত্তির অধিকারকে 'মৌলিক অধিকার' থেকে বাদ দেওয়া। বর্তমানে এটি Article 300A-এর অধীনে একটি আইনি অধিকার (Legal Right) মাত্র।
◼️ জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত পরিবর্তন: 'অভ্যন্তরীণ অশান্তি' (Internal Disturbance) শব্দটির পরিবর্তে 'সশস্ত্র বিদ্রোহ' (Armed Rebellion) শব্দটি যোগ করা হয়, যাতে জরুরি অবস্থার অপব্যবহার রোখা যায়।
◼️ মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: এটি নিশ্চিত করা হয় যে, জরুরি অবস্থার সময়ও Article 20 এবং Article 21 (ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও জীবনের সুরক্ষা) স্থগিত করা যাবে না।
◼️ কার্যকাল হ্রাস: লোকসভার কার্যকাল পুনরায় ৬ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়।
মনে রাখার সহজ টিপস:
◼️ ৪২তম বনাম ৪৪তম: ৪২ (৪+২=৬) এবং ৪৪ (৪+৪=৮)। ৪২তম সংশোধনীটি ১৯৭৬ সালে এবং ৪৪তম সংশোধনীটি ১৯৭৮ সালে হয়েছিল।
◼️ মিনি কনস্টিটিউশন: ছোট সংখ্যা (৪২) দিয়ে ছোট (মিনি) কনস্টিটিউশন মনে রাখা সহজ।
উপসংহার:
৪২তম সংশোধনী যেমন সংবিধানের কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এনেছিল, ৪৪তম সংশোধনী তেমনি সেই পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবগুলো সংশোধন করে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করেছিল। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এই দুটি সংশোধনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ
◼️ ভারতের সংবিধান - উৎস ও প্রস্তাবনা
◼️ সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভার বিল পাশের বিভিন্ন পদ্ধতি
◼️ ভারতের সংবিধান জিকে: 35টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর


Please do not enter any spam link in the comment box.